দুদিনের জন্য কর্মবিরতি স্থগিত থাকায় চট্টগ্রাম বন্দরে হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে পণ্যবাহী যানবাহনের চাপ। টানা কয়েক দিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে গতকাল সকাল থেকেই বন্দরের জেটিগুলোতে কনটেইনারবাহী জাহাজ থেকে পণ্য ওঠানামা ও খালাস কার্যক্রম শুরু হয়। এতে প্রধান টার্মিনালগুলোতে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও লরির দীর্ঘ সারি তৈরি হয়।
সরজমিনে দেখা গেছে, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি), চিটাগং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) এবং জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি) অভিমুখে পণ্যবাহী যানবাহন জেটিতে প্রবেশের অপেক্ষায় দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে আছে। কর্মবিরতির কারণে কয়েক দিন ধরে আটকে থাকা গাড়িগুলো একসঙ্গে বন্দরের ভেতরে প্রবেশ করতে শুরু করায় ফটক এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বন্দর ফটকে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের হিমশিম খেতে দেখা যায়।
বার্থ অপারেটর সূত্রে জানা গেছে, জেটিতে নোঙর করা কনটেইনারবাহী জাহাজগুলো থেকে ক্রেনের মাধ্যমে দ্রুতগতিতে কনটেইনার খালাস করা হচ্ছে। দীর্ঘ বিরতির পর শ্রমিকরা কাজে ফেরায় একদিকে অপারেশনাল চাপ বেড়েছে, অন্যদিকে দ্রুত পণ্য ছাড়ের জন্য আমদানিকারক ও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের তাগিদও বেড়েছে।
ডিপি ওয়ার্ল্ডকে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত সপ্তাহে চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরা আন্দোলনে নামেন। আন্দোলনের জেরে ১৫ জন শ্রমিক-কর্মচারীকে শাস্তিমূলকভাবে মোংলা ও পায়রা বন্দরে বদলি করা হয়। পরবর্তীতে নৌ-পরিবহন উপদেষ্টার সঙ্গে শ্রমিক-কর্মচারীদের বৈঠকের দিনই প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ অবস্থায় চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ সাময়িকভাবে দুদিনের জন্য কর্মবিরতি স্থগিতের ঘোষণা দেয়।
সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবির জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। তবে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখতে আপাতত দুদিনের সময় দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, কর্মবিরতি স্থগিত থাকলেও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, কয়েক দিনের স্থবিরতার ফলে জমে ওঠা চাপ পুরোপুরি সামাল দিতে সময় লাগবে। এর মধ্যেই আবার কর্মসূচি শুরু হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
এরই মধ্যে চট্টগ্রাম শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) নতুন করে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, আন্দোলনরত শ্রমিকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক পদক্ষেপ বন্ধ না হলে আগামীকাল থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে ফের লাগাতার কর্মবিরতি শুরু হবে।
গতকাল বিকেলে চট্টগ্রামে স্কপের এক জরুরি সভায় এ ঘোষণা দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন এএম নাজিম উদ্দিন এবং সঞ্চালনা করেন ইফতেখার কামাল খান। নেতারা জানান, রমজান মাস ও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিবেচনায় নিয়ে নৌ-পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেনের আশ্বাসে দুদিনের জন্য কর্মবিরতি স্থগিত করা হয়েছিল। উপদেষ্টা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে বৈঠকের পর বাস্তবে উল্টো চিত্র দেখা গেছে বলে দাবি করেন নেতারা।
You Must be Registered Or Logged in To Comment লগ ইন করুন?