পর্তুগালের ইতিহাসে প্রায় চার দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচন গড়াল দ্বিতীয় দফায়। প্রথম দফার ভোটে কোনো প্রার্থী এককভাবে ৫০ শতাংশ ভোট না পাওয়ায় রান-অফ নির্বাচনের আয়োজন করা হয়। শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় দফার ভোটে বড় জয় পেয়েছেন দেশটির ক্ষমতাসীন সোশ্যালিস্ট পার্টির প্রার্থী আন্তোনিও হোসে সেগুরো।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে সেগুরো তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী, কট্টর ডানপন্থি নেতা আন্দ্রে ভেনতুরাকে বিপুল ব্যবধানে পরাজিত করেন। নির্বাচন কমিশনের হিসাবে, ৯৯ শতাংশের বেশি ভোট গণনার পর দেখা যায়—৬৩ বছর বয়সী সেগুরো পেয়েছেন প্রায় ৬৬ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট, আর ভেনতুরার প্রাপ্ত ভোট ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে আগামী পাঁচ বছরের জন্য পর্তুগালের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন আন্তোনিও হোসে সেগুরো। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের ফলাফল দেশটিতে মধ্যপন্থি ও গণতান্ত্রিক শক্তির প্রতি জনগণের আস্থার স্পষ্ট প্রতিফলন।
বিজয়ী হওয়ার পর দেওয়া ভাষণে সেগুরো বলেন, তিনি কেবল একটি দলের নয়, বরং সব পর্তুগিজ নাগরিকের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে তিনি দেশের গণতন্ত্র, সংবিধান ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার প্রতিশ্রুতি দেন। তার এই জয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কমিশন প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁসহ একাধিক ইউরোপীয় নেতা অভিনন্দন জানিয়েছেন।
অন্যদিকে পরাজিত হলেও আন্দ্রে ভেনতুরার প্রাপ্ত ভোট তার রাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ৪৩ বছর বয়সী ভেনতুরার নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি দল ‘চেগা’ গত বছরের সাধারণ নির্বাচনে ২২ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেলেও এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার ভোটের হার বেড়ে ৩৩ শতাংশ ছাড়িয়েছে। পরাজয় মেনে নিয়ে ভেনতুরা দাবি করেন, তার দলই ভবিষ্যতে পর্তুগালের ডানপন্থি রাজনীতির নেতৃত্ব দেবে এবং একদিন রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার লক্ষ্য তাদের রয়েছে।
উল্লেখ্য, পর্তুগালের প্রেসিডেন্টের পদটি মূলত আনুষ্ঠানিক হলেও সংসদ ভেঙে দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ক্ষমতা রাষ্ট্রপ্রধানের হাতে রয়েছে।
এদিকে সাম্প্রতিক ভয়াবহ ঝড় ও বন্যার কারণে দেশের কয়েকটি অঞ্চলে ভোটগ্রহণে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। বন্যার কারণে তিনটি পৌরসভায় ভোট এক সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এসব এলাকার ভোটার সংখ্যা মোট ভোটারের মাত্র শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ হওয়ায় সামগ্রিক ফলাফলে এর কোনো উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েনি।
নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও হোসে সেগুরো আগামী মার্চের শুরুর দিকে বর্তমান প্রেসিডেন্ট মার্সেলো রেবেলো ডি সুসার স্থলাভিষিক্ত হবেন।
You Must be Registered Or Logged in To Comment লগ ইন করুন?