ময়মনসিংহের ত্রিশাল বাজারে কেনাকাটা করতে গিয়ে অপহরণের শিকার হন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের এক আদিবাসী শিক্ষার্থী। বুধবার দুপুরে ঘটে এ ঘটনা। পরে মুক্তিপণের টাকা নেওয়ার পর বিকেল ৫টার দিকে তাকে ছেড়ে দেয় অপহরণকারীরা।
ভুক্তভোগীর নাম কুমলাও আরেং। তিনি ধোবাউড়া উপজেলার ঘোষগাঁও ইউনিয়নের বাসিন্দা অপূর্ব মানখিনের ছেলে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের শিক্ষার্থী ও আদিবাসী ছাত্র সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক শ্রাবণ চিছামের বরাতে জানা গেছে, দুপুর ২টার দিকে ত্রিশাল বাজারে জিনিসপত্র কিনতে যান কুমলাও। এ সময় অটোরিকশায় আসা ৫-৬ জন দুর্বৃত্ত মুখে কাপড় চেপে তাকে অজ্ঞান করে গোপন স্থানে নিয়ে যায়।
জ্ঞান ফেরার পর কুমলাও নিজেকে একটি ভবনের ছাদে দেখতে পান। প্রথমে অপহরণকারীরা তার কাছে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে; পরে আর্থিক অবস্থার কথা জেনে তা কমিয়ে এক লাখে আনে। তাকে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে মারধরও করা হয়। উপায় না দেখে তিনি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে তার বাবা ও মামা আলাদাভাবে ২০ হাজার টাকা করে বিকাশে পাঠান।
টাকা পাওয়ার পর বিকেল ৫টার দিকে চোখ বেঁধে তাকে একটি অটোরিকশায় তুলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ত্রিশাল এলাকায় ফেলে যায় অপহরণকারীরা।
কুমলাও-এর বাবা জানান, ঘটনার পর থেকে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন এবং সবার সঙ্গে ঠিকমতো কথা বলতে পারছেন না।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন, ক্যাম্পাসের আশপাশে এ ধরনের ঘটনা প্রায়ই ঘটছে।
ত্রিশাল থানার এসআই দেবলাল সরকার জানান, ভুক্তভোগীর বাবা থানায় অভিযোগ করেছেন, পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে, তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোক্টর মাহবুবুর রহমান জনি বলেন, প্রশাসন ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে দেখছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারে কাজ করছে।
You Must be Registered Or Logged in To Comment লগ ইন করুন?