clock ,

চীনের রফতানি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববাজারে বিরল খনিজের দামে রেকর্ড উল্লম্ফন

চীনের রফতানি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববাজারে বিরল খনিজের দামে রেকর্ড উল্লম্ফন

বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি (ইভি), প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পণ্য তৈরির অপরিহার্য কাঁচামাল বিরল খনিজের দাম বিশ্ববাজারে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। জাপানের ওপর চীনের নতুন রফতানি নিয়ন্ত্রণ আরোপ এবং একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে সামরিক সরঞ্জামের চাহিদা বৃদ্ধির ফলে গত কয়েক সপ্তাহে এসব খনিজের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটেছে বলে জানিয়েছে জাপানি সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়া।

ব্রিটিশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান আর্গুস মিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপের বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি ডিসপ্রোসিয়ামের দাম দাঁড়িয়েছে ৯৬০ ডলারে। একই সঙ্গে টারবিয়ামের দাম বেড়ে প্রতি কেজি প্রায় হাজার ডলারে পৌঁছেছে। ২০১৫ সালের পর এই প্রথম খনিজ দুটি এত উচ্চমূল্যে লেনদেন হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা জানান, বৈদ্যুতিক গাড়ির মোটর তৈরিতে ব্যবহৃত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন চুম্বক তৈরিতে এই দুই খনিজের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।

শুধু ডিসপ্রোসিয়াম টারবিয়ামই নয়, অন্যান্য বিরল খনিজের দামও দ্রুত বাড়ছে। চিকিৎসা সরঞ্জাম এলইডি উৎপাদনে ব্যবহৃত ইট্রিয়ামের দাম ডিসেম্বরের শেষে যেখানে প্রতি কেজি ২৬০ ডলার ছিল, তা গত বৃহস্পতিবার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২৫ ডলারে। একইভাবে রাডার ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত গ্যালিয়ামের দাম বর্তমানে প্রতি কেজি হাজার ৬০০ ডলারে পৌঁছেছে, যা জানুয়ারির শুরুর পর সর্বোচ্চ।

বিশ্লেষকদের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ হলো চীনের সাম্প্রতিক রফতানি নিয়ন্ত্রণ। চলতি বছরের জানুয়ারির শুরুতে চীন সরকার ঘোষণা দেয়, জাপানে দ্বিমুখী ব্যবহারযোগ্য বাডুয়াল-ইউজপণ্যের রফতানি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এসব পণ্য প্রযুক্তি বেসামরিক কাজে যেমন ব্যবহৃত হয়, তেমনি সামরিক ক্ষেত্রেও ব্যবহারের সুযোগ থাকায় চীন সেগুলোর রফতানিতে কড়াকড়ি আরোপ করেছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি মূলত একটি কূটনৈতিক বাণিজ্যিক প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ। গত বছরের নভেম্বরে তাইওয়ান ইস্যুতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির দেওয়া মন্তব্যে বেইজিং অসন্তুষ্ট হয়েছিল। তারই প্রতিক্রিয়ায় জাপানের বিরুদ্ধে এই রফতানি নিয়ন্ত্রণ জারি করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্বের বিরল খনিজ উৎপাদনের বড় একটি অংশ চীনের নিয়ন্ত্রণে থাকায় দেশটির এই সিদ্ধান্ত বিশ্ববাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলেছে। একটি বিশেষায়িত ট্রেডিং কোম্পানির এক কর্মকর্তা নিক্কেই এশিয়াকে জানান, নতুন বিধিনিষেধের পর জাপানসহ বিভিন্ন দেশের কোম্পানি দ্রুত নিজেদের মজুদ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এর ফলে সরবরাহ সংকট আরও তীব্র হচ্ছে এবং বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈদ্যুতিক গাড়ি, প্রতিরক্ষা শিল্প উচ্চপ্রযুক্তি পণ্যের উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়তে পারে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়েও পড়বে।

 

You Must be Registered Or Logged in To Comment লগ ইন করুন?

আমাদের অনুসরণ করুন

জনপ্রিয় বিভাগ

সাম্প্রতিক মন্তব্য