দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ থাইল্যান্ডে আজ রোববার একযোগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান সংশোধনী বিষয়ে গণভোট। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল থেকেই দেশজুড়ে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা, সরকার পরিবর্তন এবং ক্ষমতার পালাবদলের পর এই নির্বাচনকে থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।
থাইল্যান্ডে সাধারণত নির্ধারিত মেয়াদ শেষে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে এবারের নির্বাচন নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সর্বশেষ ২০২৩ সালের নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের চার বছর মেয়াদে সংসদের নিম্নকক্ষে থাকার কথা ছিল। কিন্তু সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সংসদ ভেঙে দিয়ে আগাম নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
গত বছরের মাঝামাঝি থেকে ধারাবাহিক কয়েকটি ঘটনায় থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়। এর সূচনা হয় ২০২৫ সালের মে মাসে, যখন প্রতিবেশী দেশ কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। ওই সময় কম্বোডিয়ার হামলায় সীমান্ত এলাকায় এক থাই সেনা নিহত হন। এ ঘটনায় দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কেও তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়।
এর পরের মাস জুন ২০২৫ সালে উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগ নেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পায়েতোংতার্ন সিনাওয়াত্রা। তিনি কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। তবে সেই ফোনালাপে হুন সেনকে ‘আংকেল’ বলে সম্বোধন করা এবং নিজ দেশের সেনাবাহিনী সম্পর্কে সমালোচনামূলক মন্তব্য করার বিষয়টি পরে বড় বিতর্কের জন্ম দেয়। ফোনালাপটি ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
ফোনালাপ ফাঁসের সরাসরি প্রভাব পড়ে ক্ষমতাসীন জোটে। প্রধানমন্ত্রী সিনাওয়াত্রার দল ফিউ থাই পার্টির সবচেয়ে বড় শরিক ভুমজাইথাই পার্টি জোট থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। এতে সংসদে সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর মুখে পড়ে এবং কার্যত দুর্বল অবস্থায় পড়ে যায়।
এর মধ্যেই ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে থাইল্যান্ডের সাংবিধানিক আদালত এক রায়ে জানান, প্রধানমন্ত্রী পায়েতোংতার্ন সিনাওয়াত্রা নৈতিকতা লঙ্ঘন করেছেন। আদালতের এই রায়ের ফলে তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্বের অবসান ঘটে।
পরবর্তী মাস সেপ্টেম্বর ২০২৫ সালে সংসদের দ্বিতীয় বৃহৎ দল ভুমজাইথাই পার্টির নেতা অনুতিন চার্নভিরাকুল ‘পোগ্রেসিভ পিপলস পার্টি’র সঙ্গে জোট গঠন করে নতুন সরকার গঠন করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। তবে এই জোট গঠনের অন্যতম শর্ত ছিল সংসদ ভেঙে দিয়ে আগাম জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা।
জোট চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে অনুতিন চার্নভিরাকুল সংসদ ভেঙে দেন। এর মধ্য দিয়েই আজকের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান গণভোটের আনুষ্ঠানিক পথ তৈরি হয়।
দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতার অধ্যায়ের পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচন ও গণভোট থাইল্যান্ডের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামো, গণতান্ত্রিক ধারা এবং ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকেরা।
You Must be Registered Or Logged in To Comment লগ ইন করুন?