বাংলাদেশ, চীন, মিয়ানমার ও পাকিস্তানকে নিয়ে একটি আঞ্চলিক সহযোগিতার ফোরাম গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে ইসলামাবাদ। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে বাংলাদেশ রাজি হলে ইসলামাবাদে বৈঠক আয়োজন করতে চায় পাকিস্তান। তবে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনের আগে কোনো বৈঠকে অংশ নেওয়ার পক্ষপাতী নয়।
প্রসঙ্গত, গত বছরের জুনে চীনের কুনমিংয়ে বাংলাদেশ–চীন–পাকিস্তান ত্রিপক্ষীয় ফোরাম গঠনের প্রস্তাব আনা হয়েছিল। তখন বাংলাদেশ রাজি না হওয়ায় উদ্যোগটি কার্যকর হয়নি। বাংলাদেশ এ সময় যুক্তি দিয়েছিল, শ্রীলঙ্কা বা নেপালের মতো চতুর্থ দেশ ছাড়া এই ধরনের আঞ্চলিক জোট দক্ষিণ এশিয়ায় ফলপ্রসূ হবে না।
ঢাকা–ইসলামাবাদ কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে পাকিস্তান চারদেশীয় বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছে। ২৪ জানুয়ারি পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে ফোনালাপে দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকা–করাচি সরাসরি বিমান চলাচল, করাচি–চট্টগ্রাম পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং রোহিঙ্গা ইস্যুতে সহযোগিতা।
সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির প্রথম আলোকে বলেছেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ পর্যায়ে এমন কোনো নতুন উদ্যোগে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়া কতটা সমীচীন হবে, তা বিবেচনা করা প্রয়োজন। বিশ্ব প্রেক্ষাপটে বঙ্গোপসাগর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় চীন ও পাকিস্তান বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।”
পাকিস্তানের প্রস্তাব অনুযায়ী চার দেশের প্রথম বৈঠক অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ নির্বাচন পরবর্তী সরকার আসার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
You Must be Registered Or Logged in To Comment লগ ইন করুন?