শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে যমুনা অভিমুখে বিক্ষোভ চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো ধরনের গুলি ব্যবহার করেনি বলে জানিয়েছে সরকার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেবল সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, ৫ ফেব্রুয়ারি বিকেল থেকে ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানারে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। ওই এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকলেও প্রথমদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো বলপ্রয়োগ করেনি।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, শুক্রবার বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করেন এবং একপর্যায়ে জলকামানের ওপর উঠে পড়েন। তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করা হয়। তবে এ সময় কোনো আগ্নেয়াস্ত্র বা গুলি ব্যবহার করা হয়নি।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশও নিশ্চিত করেছে, জনশৃঙ্খলা রক্ষা ও প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনানুগভাবেই বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করা হয়েছে এবং কোনো ধরনের গুলির ব্যবহার হয়নি।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনায় আহত হয়ে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ মোট ২৩ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে আহতদের কারও শরীরে গুলির আঘাত পাওয়া যায়নি বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ ঘটনায় জাতিসংঘের অধীনে তদন্তের আইনগত দিক পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং আগামী রোববার সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হবে।
বিক্ষোভকারীদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ সরকার প্রত্যাখ্যান করেছে। পাশাপাশি আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে সবাইকে ধৈর্য, সংযম ও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সরকার জানায়, একটি শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য এবং এ জন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
You Must be Registered Or Logged in To Comment লগ ইন করুন?