যুক্তরাষ্ট্রে বহুল আলোচিত তথাকথিত ‘এপস্টেইন ফাইল’ প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে একাধিক প্রভাবশালী নাম। সেই তালিকায় এবার উঠে এসেছে পপসংগীতের কিংবদন্তি মাইকেল জ্যাকসনের নামও। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া কিছু দাবি অনুযায়ী, জ্যাকসনকে জেফ্রি এপস্টেইনের বিলাসবহুল আবাসনে দেখা গেছে কখনো এপস্টেইনের সঙ্গে, কখনো আবার যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের সঙ্গে। তবে এসব দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো প্রামাণ্য নথি বা আদালত-সমর্থিত তথ্য প্রকাশ পায়নি।
সম্প্রতি যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইন সংক্রান্ত কিছু নথি প্রকাশ্যে আসার পর বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে দাবি করা হচ্ছে, ওই নথিগুলোতে মাইকেল জ্যাকসনের নাম উল্লেখ রয়েছে। তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো নথিতে কারও নাম থাকা মানেই তার বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো আইনগতভাবে সঠিক নয়। বরং নথির প্রেক্ষাপট, তথ্যের উৎস এবং প্রমাণের গ্রহণযোগ্যতাই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
এ বিষয়ে মাইকেল জ্যাকসনের পরিবার ও তার উত্তরাধিকার দেখভালকারী সংস্থাগুলো সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। তাদের বক্তব্য, শিল্পীর বিরুদ্ধে অতীতে ওঠা বহু অভিযোগই আদালতে প্রমাণিত হয়নি অথবা ভিত্তিহীন হিসেবে খারিজ হয়েছে। এপস্টেইন কাণ্ডে চলমান আলোচনায় জ্যাকসনের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণ করে—এমন কোনো সরকারি নথি বা বিচারিক মন্তব্য এখনো প্রকাশিত হয়নি বলেও তারা দাবি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া যাচাইহীন তথ্য দ্রুত বিশ্বাস করা বিভ্রান্তিকর হতে পারে। এপস্টেইন কাণ্ডে যেসব নথি ধাপে ধাপে প্রকাশ পাচ্ছে, সেগুলোর আইনগত গুরুত্ব ও প্রেক্ষাপট যাচাই না করে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়।
পর্যবেক্ষকদের ধারণা, ভবিষ্যতে যদি এ বিষয়ে নতুন ও নির্ভরযোগ্য তথ্য সামনে আসে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই তা স্পষ্ট করবে। আপাতত মাইকেল জ্যাকসনের নাম ঘিরে চলমান আলোচনার বড় অংশই গুজব ও জল্পনার ওপর নির্ভর করছে বলে মনে করছেন তারা।
You Must be Registered Or Logged in To Comment লগ ইন করুন?